Geography

দশম শ্রেণি ভূগোলঃ তৃতীয় অধ্যায় -বারিমণ্ডল

মাধ্যমিক ভূগোলের তৃতীয় অধ্যায় বারিমণ্ডল বা জলমণ্ডল হলো পৃথিবীর সেই বিশাল অংশ, যা সমগ্র ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭১% জুড়ে রয়েছে। এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে সমুদ্রস্রোত, সমুদ্রতরঙ্গ, জোয়ার-ভাটা, মগ্নচড়া, হিমপ্রাচীর, শৈবাল সাগর, প্ল্যাংকটন সহ সমুদ্র সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলি।

এখানে সমুদ্রস্রোতের শ্রেণিবিভাগ, উষ্ণ ও শীতল স্রোতের বৈশিষ্ট্য, জোয়ার-ভাটার কারণ ও প্রকারভেদ, চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণের প্রভাব, সিজিগি-প্রতিযোগ-সংযোগ অবস্থান, অ্যাপোজি-পেরিজি, ভরা কোটাল-মরা কোটাল, বানডাকা, ষাঁড়াষাঁড়ির বান, গ্র্যান্ড ব্যাংক, ডগার্স ব্যাংক, হিমপ্রাচীর, হিমশৈল, শৈবাল সাগর, গায়র বা কুণ্ডলী, কোরিওলিস বল, ফেরেল সূত্র—প্রতিটি বিষয় সহজ ভাষায় উত্তরসহ উপস্থাপন করা হয়েছে।

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নমান – 1)

  1. ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে সৃষ্ট সমুদ্রস্রোত কী ধরনের হয়?
    উত্তর: উষ্ণপ্রকৃতির।
  2. ভূপৃষ্ঠের কোনো একটি স্থানের জোয়ারের সঙ্গে ভাটার সময়ের পার্থক্য হলো—
    উত্তর: ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।
  3. নিম্নলিখিত কোন স্রোতটি আটলান্টিক মহাসাগরে শৈবাল সাগর সৃষ্টি করে না?
    উত্তর: পেরু স্রোত।
  4. পৃথিবীর ব্যস্ততম মহাসাগর কোনটি?
    উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগর।
  5. গ্রীনল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল বরাবর প্রবাহিত স্রোতটি কী নামে পরিচিত?
    উত্তর: ল্যাব্রাডর স্রোত।
  6. যে সমুদ্রস্রোত ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে, সেটি কী?
    উত্তর: মৌসুমি স্রোত।
  7. চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর একই সরলরেখায় অবস্থানকে কী বলে?
    উত্তর: সিজিগি।
  8. কেন্দ্রাতিগ বলের দ্বারা কী ঘটে?
    উত্তর: গৌণ জোয়ার।
  9. জেনকিন্সের মতে, পৃথিবীর জলভাগের ওপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণের অনুপাত কত?
    উত্তর: ১১:৫।
  10. ‘কডাল’ শব্দের অর্থ কী?
    উত্তর: সমুদ্র।
  11. বান ডাকা সংঘটিত হয় কোন ঋতুতে?
    উত্তর: বর্ষা।
  12. নিম্নলিখিত কোনটি জোয়ারের কুপ্রভাব?
    উত্তর: নদীর জলের লবণীভবন।
  13. চাঁদ অপেক্ষা সূর্যের ভর কত গুণ বেশি?
    উত্তর: ২৫৫ কোটি গুণ।
  14. কোন মহাসাগরে ঋতু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তিত হয়?
    উত্তর: ভারত মহাসাগর।
  15. সমুদ্রের যে স্থানে উষ্ণ ও শীতল স্রোত উভয়ে মিলিত হয় তাকে কী বলে?
    উত্তর: হিমপ্রাচীর।
  16. এল নিনোর প্রভাব দেখা যায় কোন মহাসাগরে?
    উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে।
  17. কোনো স্থানের মুখ্য জোয়ার এবং গৌণ জোয়ারের মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত?
    উত্তর: ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।
  18. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি নির্ভর করে কিসের ওপর?
    উত্তর: বায়ুপ্রবাহ।
  19. পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে দূরত্ব সর্বাধিক হলে তাকে কী বলে?
    উত্তর: অ্যাপোজি।
  20. শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত ও উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত মিলিত হয়ে যেখানে ঘন কুয়াশা ও ঝঞ্ঝা তৈরি করে, সেই স্থানটি কোনটি?
    উত্তর: নিউ ফাউন্ডল্যান্ড উপকূল।
  21. গ্র্যান্ড ব্যাংক মগ্নচড়াটি কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
    উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগর।
  22. উপসাগরীয় স্রোতের রং কেমন?
    উত্তর: নীল।
  23. হিমপ্রাচীর কোথায় দেখা যায়?
    উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগর।
  24. চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় কত দিন?
    উত্তর: প্রায় ২৭ দিন।
  25. নিম্নলিখিত কোন মাছটি জোয়ারের সময় নদীতে প্রবেশ করে?
    উত্তর: ইলিশ।
  26. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান নিয়ন্ত্রক কী?
    উত্তর: নিয়ত বায়ু।
  27. গ্র্যান্ড ব্যাংক কী?
    উত্তর: মগ্নচড়া।
  28. শৈবাল সাগর দেখা যায় কোন মহাসাগরে?
    উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগরে।
  29. ডগার্স ব্যাংক নামক মগ্নচড়াটি সৃষ্টি হয়েছে কোন সাগরে?
    উত্তর: উত্তর সাগরে।
  30. মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক স্রোতের মিলিত শাখার নাম কী?
    উত্তর: অগুলহাস স্রোত।
  31. সমুদ্রে ভাসমান বরফের স্তূপকে কী বলে?
    উত্তর: হিমশৈল।
  32. জাপান উপকূল উষ্ণ থাকে কোন স্রোতের জন্য?
    উত্তর: কুরোশিও স্রোতের জন্য।
  33. মৌসুমী বায়ু কোন মহাসাগরের স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করে?
    উত্তর: ভারত মহাসাগরের স্রোতকে।
  34. পৃথিবীর মোট আয়তনের কতটা জলভাগ দ্বারা আবৃত?
    উত্তর: ৭১%।
  35. সমুদ্রজলের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলনকে কী বলে?
    উত্তর: সমুদ্রস্রোত।
  36. সমুদ্রজলের একই স্থানে ওঠা নামাকে কী বলে?
    উত্তর: সমুদ্রতরঙ্গ।
  37. মগ্নচড়ায় কোন মৎস্য খাদ্য সর্বাধিক পাওয়া যায়?
    উত্তর: প্ল্যাঙ্কটন।
  38. ‘মহাসাগরের থার্মাল রেগুলেটর’ কাকে বলে?
    উত্তর: সমুদ্রস্রোতকে।
  39. যে স্রোত সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে কী বলে?
    উত্তর: পৃষ্ঠস্রোত বা বহিঃস্রোত।
  40. যে স্রোত সমুদ্রের নীচের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে কী বলে?
    উত্তর: অন্তঃস্রোত।
  41. উষ্ণ স্রোত কোন অঞ্চল থেকে কোন অঞ্চলে প্রবাহিত হয়?
    উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে।
  42. শীতল স্রোত কোন অঞ্চল থেকে কোন অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়?
    উত্তর: মেরু অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে।
  43. কোন গোলার্ধে জলভাগের আয়তন বেশি?
    উত্তর: দক্ষিণ গোলার্ধে।
  44. সমুদ্রের মধ্যভাগে সৃষ্ট স্রোতবিহীন জলাবর্তকে কী বলে?
    উত্তর: শৈবাল সাগর।
  45. উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত এবং শীতল ল্যাব্রাডোর স্রোতের মিলনস্থলে কী সৃষ্টি হয়েছে?
    উত্তর: হিমপ্রাচীর।
  46. পৃথিবীতে জল বেশি থাকার জন্য তাকে কী বলে?
    উত্তর: নীলগ্রহ।
  47. সমুদ্রস্রোতের গড় বেগ কত?
    উত্তর: ৫–১০ কিমি/ঘণ্টা।
  48. কোন স্রোতের প্রভাবে নিউফাউন্ডল্যান্ডে তুষারপাত হয়?
    উত্তর: শীতল ল্যাব্রাডোর স্রোতের প্রভাবে।
  49. আটলান্টিক মহাসাগরের জল জোয়ারের সময় কোন নদীতে প্রবেশ করে?
    উত্তর: আমাজন নদীতে।
  50. পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত?
    উত্তর: প্রায় ৩,৮৪,৪০০ কিমি।
  51. চাঁদের আকর্ষণে সৃষ্ট জোয়ারকে কী বলে?
    উত্তর: চান্দ্র জোয়ার।
  52. সূর্যের আকর্ষণে সৃষ্ট জোয়ারকে কী বলে?
    উত্তর: সৌর জোয়ার।
  53. দুটি গৌণ জোয়ারের মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত?
    উত্তর: ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট।
  54. জোয়ার-ভাটা খেলে পশ্চিমবঙ্গের এমন একটি নদীর নাম করো।
    উত্তর: হুগলি নদী।
  55. মরা কোটাল কোন তিথিতে হয়?
    উত্তর: কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে।
  56. পৃথিবীর যে অংশ ঠিক চাঁদের সামনে থাকে, সেখানে কোন জোয়ার হয়?
    উত্তর: মুখ্য জোয়ার।
  57. পৃথিবী যখন চন্দ্র ও সূর্যের মাঝে থাকে, তখন তাকে কী বলে?
    উত্তর: প্রতিযোগ।
  58. পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ সূর্যের তুলনায় কত গুণ বেশি?
    উত্তর: ২.২ গুণ বেশি।
  59. যেখানে মুখ্য জোয়ার হয় তার প্রতিপাদ স্থানে কী হয়?
    উত্তর: গৌণ জোয়ার।
  60. সংযোগ জোয়ার কোন তিথিতে হয়?
    উত্তর: অমাবস্যা তিথিতে।
  61. প্রতিযোগ অবস্থানের তিথি কী?
    উত্তর: পূর্ণিমা।
  62. প্রতিদিন কত বার জোয়ার এবং কতবার ভাটা হয়?
    উত্তর: দুবার জোয়ার ও দুবার ভাটা।
  63. চাঁদ একদিনে কক্ষপথে কত ডিগ্রি অতিক্রম করে?
    উত্তর: ১৩°।
  64. কোন তিথিতে জোয়ার অতি প্রবল হয়?
    উত্তর: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে (সংযোগ জোয়ার/ভরা কোটাল)।
  65. কোন ঋতুতে হুগলি নদীতে ষাঁড়াষাঁড়ির বান ডাকে?
    উত্তর: বর্ষা ঋতুতে।
  66. পৃথিবীর বৃহত্তম মগ্নচড়া কোনটি?
    উত্তর: গ্র্যান্ড ব্যাংক।
  67. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ কি?
    উত্তর: নিয়ত বায়ুপ্রবাহ।
  68. পূর্ণিমা তিথিতে সিজিগি অবস্থানকে কি বলে?
    উত্তর: প্রতিযোগ।
  69. আবর্তনকালে চাঁদ ও পৃথিবীর পারস্পরিক দূরত্ব ন্যূনতম হলে তাকে কি বলে?
    উত্তর: পেরিজি অবস্থা (৩,৫৬,০০০ কিমি দূরত্ব)।
  70. পৃথিবীর দ্রুততম সমুদ্রস্রোত কোনটি?
    উত্তর: উপসাগরীয় স্রোত।
  71. সামুদ্রিক মাছের প্রধান খাদ্য কি?
    উত্তর: প্ল্যাংকটন।
  72. ক্রান্তীয় সমুদ্রে কোন ধরণের সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি হয়?
    উত্তর: উষ্ণ স্রোত।
  73. কোন তিথিতে ভরা জোয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হয়?
    উত্তর: অমাবস্যা তিথিতে।
  74. কোনো স্থানে দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত?
    উত্তর: ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট।
  75. সমুদ্র জলরাশির একইস্থানে বৃত্তাকার কক্ষপথে ওঠানামাকে কি বলে?
    উত্তর: সমুদ্রতরঙ্গ।
  76. মরা কোটাল কোন তিথিতে দেখা যায়?
    উত্তর: কৃষ্ণ ও শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে।
  77. সমুদ্রস্রোতের দিক বিক্ষেপের কারণ কী?
    উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতি।
  78. কোন বায়ুর প্রভাবে নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রস্রোতগুলি পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়?
    উত্তর: আয়ন বায়ু।
  79. গায়র কাকে বলে?
    উত্তর: আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের উপক্রান্তীয় অঞ্চলে সৃষ্ট চক্রাকারে জলাবর্ত।
  80. আয়ন বায়ুপ্রবাহ কোন সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তিকে প্রভাবিত করে?
    উত্তর: উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত।
  81. নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে অবস্থিত মৎস্য আহরণ ক্ষেত্রটির নাম কী?
    উত্তর: গ্র্যান্ড ব্যাংক।
  82. দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি উষ্ণস্রোতের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: নিউ সাউথওয়েলস স্রোত।
  83. দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি শীতল স্রোতের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: পেরু স্রোত বা হামবোল্ট স্রোত।
  84. আটলান্টিক মহাসাগরের একটি শীতল স্রোতের নাম লেখো।
    উত্তর: বেঙ্গুয়েলা স্রোত।
  85. আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সমুদ্রস্রোতের নাম লেখো।
    উত্তর: শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত।
  86. দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের একটি উষ্ণ স্রোতের নাম লেখো।
    উত্তর: ব্রাজিল স্রোত।
  87. প্রশান্ত মহাসাগরের একটি শীতল স্রোতের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত।
  88. ভারত মহাসাগরের একটি সমুদ্রস্রোতের নাম লেখো।
    উত্তর: সোমালি স্রোত।
  89. কোন দুটি স্রোতের মিলনস্থলে হিমপ্রাচীর সৃষ্টি হয়েছে?
    উত্তর: উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত।
  90. কুরোশিয়ো স্রোত কোথায় দেখা যায়?
    উত্তর: জাপানের পূর্ব উপকূলে।
  91. কোন স্রোতের প্রভাবে শীতকালে জাপান উপকূল উষ্ণ থাকে?
    উত্তর: উষ্ণ কুরোশিয়ো স্রোত বা জাপান স্রোত।
  92. এল-নিনোর বিপরীত অবস্থা বোঝাতে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়?
    উত্তর: লা-নিনা।
  93. শীতল ওখটস্ক স্রোত কোন মহাসাগরে প্রবাহিত হয়?
    উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরে।
  94. চাঁদ কতদিনে একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে?
    উত্তর: সাড়ে ২৭ দিন।
  95. জোয়ার ও ভাটার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত?
    উত্তর: ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।
  96. দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত হয়?
    উত্তর: ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট।
  97. চাঁদের অপসূর অবস্থানকে কী বলে?
    উত্তর: অ্যাপোজি।
  98. দুটি গৌণ জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত?
    উত্তর: ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট।
  99. চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে ন্যূনতম দূরত্বকে কী বলে?
    উত্তর: পেরিজি।
  100. পৃথিবীর দুই বিপরীত দিকে চাঁদ ও সূর্যের অবস্থানকে কী বলে?
    উত্তর: প্রতিযোগ।
  101. কোন তিথিতে প্রতিযোগ অবস্থান দেখা যায়?
    উত্তর: পূর্ণিমা তিথিতে।
  102. প্রত্যক্ষ জোয়ারের অপর নাম কী?
    উত্তর: চান্দ্রজোয়ার।
  103. কোন কোন তিথিতে মরা জোয়ার হয়?
    উত্তর: কৃষ্ণ ও শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে।
  104. অ্যাপোজি অবস্থানে পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে দূরত্ব কত হয়?
    উত্তর: ৪ লক্ষ ৭ হাজার কিমি।
  105. চন্দ্রের কোন অবস্থানের সময় জোয়ারের জল অনেক ফুলে ওঠে?
    উত্তর: পেরিজি অবস্থান।
  106. চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে গড় দূরত্ব কত?
    উত্তর: ৩,৮৪,৪০০ কিমি।
  107. পেরিজি অবস্থানে চন্দ্র ও পৃথিবীর দূরত্ব কত হয়?
    উত্তর: ৩,৫৬,০০০ কিমি।
  108. কোন তিথিতে জোয়ারের মাত্রা সর্বাধিক?
    উত্তর: অমাবস্যা তিথিতে।
  109. পৃথিবীর ওপর চাঁদের আকর্ষণ সূর্যের আকর্ষণ অপেক্ষা কত গুণ বেশি?
    উত্তর: ২.২ গুণ।
  110. অমাবস্যা তিথির সিজিগি অবস্থানকে কী বলে?
    উত্তর: সংযোগ।
  111. উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের একটি উষ্ণ স্রোতের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: আলাস্কা স্রোত।
  112. উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের একটি শীতল স্রোতের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: বেরিং স্রোত।
  113. উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি শীতল স্রোতের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: ল্যাব্রাডর স্রোত।
  114. উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি উষ্ণ স্রোতের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত।
  115. দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি উষ্ণ স্রোতের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: পূর্ব অস্ট্রেলীয় বা নিউ সাউথ ওয়েলস্ স্রোত।
  116. দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের একটি উষ্ণ স্রোতের নাম করো।
    উত্তর: ব্রাজিল স্রোত।
  117. দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের একটি শীতল স্রোতের নাম বলো।
    উত্তর: বেঙ্গুয়েলা স্রোত।
  118. দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি শীতল স্রোতের নাম উল্লেখ করো।
    উত্তর: পেরু বা হামবোল্ড স্রোত।
  119. মোট সমুদ্রস্রোতের প্রায় কত শতাংশ বহিঃস্রোত?
    উত্তর: মোট সমুদ্রস্রোতের ১০%।
  120. কোন এককের সাহায্যে সমুদ্রস্রোতের মাধ্যমে জলপ্রবাহের পরিমাণ মাপা হয়?
    উত্তর: সেভেয়ার ড্রপ বা ভাদ্রুপ।
  121. ঋতুপরিবর্তনে কোন মহাসাগরের সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তন ঘটে?
    উত্তর: ভারত মহাসাগর।
  122. সমুদ্রজলে উষ্ণতার তারতম্যের প্রধান কারণ কী?
    উত্তর: সূর্যরশ্মির পতনকোণের তারতম্য।
  123. নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে ঘন কুয়াশা ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির কারণ কী?
    উত্তর: উপসাগরীয় স্রোত ও ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলন।
  124. কোন দুটি স্রোতের মিলনে জাপান উপকূলে কুয়াশা হয়?
    উত্তর: উষ্ণ কুরোশিয়ো ও শীতল ওয়াশিয়ো।
  125. উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনস্থলে _______ সৃষ্টি হয়।
    উত্তর: হিমপ্রাচীর।
  126. উষ্ণ _______ স্রোতের প্রভাবে শীতকালে জাপান উপকূল উষ্ণ থাকে।
    উত্তর: কুরোশিয়ো।
  127. দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল দিয়ে উত্তর দিকে প্রবাহিত শীতল স্রোতের নাম ________ স্রোত।
    উত্তর: ফকল্যান্ড।
  128. ‘কাডাল’ শব্দের অর্থ ________।
    উত্তর: সমুদ্র।
  129. জোয়ারের জল অত্যাধিক উঁচু হয়ে নদীতে প্রবেশ করলে তাকে _______ বলে।
    উত্তর: বান।
  130. যে তরঙ্গ সমুদ্র উপকূলকে ক্ষতি করে তাকে _______ তরঙ্গ বলে।
    উত্তর: বিনাশকারী।
  131. সমুদ্র স্রোতের প্রধান নিয়ন্ত্রক কে?
    উত্তর: নিয়ত বায়ুপ্রবাহ।
  132. ভারত মহাসাগরের উত্তর ভাগের স্রোতগুলি কোন্ কোন্ বায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয়?
    উত্তর: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু দ্বারা।
  133. পৃথিবীতে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পৃথিবীকে কি নামে ডাকা হয়?
    উত্তর: নীল গ্রহ।
  134. উপকূলের জলবায়ু কার দ্বারা প্রভাবিত হয়?
    উত্তর: উপকূলের জলবায়ু সমুদ্রস্রোত দ্বারা প্রভাবিত হয়।
  135. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর–পূর্ব উপকূলের কোন স্রোতের প্রভাবে উষ্ণতা কমে যায়?
    উত্তর: শীতল লাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে।
  136. লাব্রাডর স্রোত কোন মহাসাগরে প্রবাহিত হয়?
    উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগরে।
  137. পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা দ্রুতগামী সমুদ্রস্রোতের নাম কী?
    উত্তর: উপসাগরীয় সমুদ্রস্রোত।
  138. দিনে কতবার জোয়ার-ভাটা হয়?
    উত্তর: দিনে দুবার জোয়ার ও দুবার ভাটা হয়।
  139. ভরা কোটাল কোন তিথিতে হয়?
    উত্তর: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে।
  140. সর্বোচ্চ জোয়ার কোনটি?
    উত্তর: ভরা কোটাল।
  141. বেরিং স্রোত কাকে বলে?
    উত্তর: উত্তরের সুমেরু মহাসাগর থেকে একটি শীতল স্রোত মেরু বায়ুর প্রভাবে বেরিং প্রণালীর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করে, একেই বেরিং স্রোত বলে।
  142. মৌসুমি স্রোত কোন মহাসাগরে দেখা যায়?
    উত্তর: ভারত মহাসাগরে।
  143. কেন্দ্রাতিগ বল কাকে বলে?
    উত্তর: পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতমুখী ক্রিয়াশীল বলকে কেন্দ্রাতিগ বল বলে।
  144. হিমশৈল কাকে বলে?
    উত্তর: সমুদ্রে ভাসমান বিশাল আকৃতির বরফের স্তূপকে হিমশৈল বলে।
  145. প্ল্যাঙ্কটন কী? কয় প্রকার ও কী কী?
    উত্তর: এক প্রকার ক্ষুদ্রাকার জীব। দুই প্রকার—ফাইটো প্ল্যাঙ্কটন ও জু-প্ল্যাঙ্কটন।
  146. আটলান্টিক মহাসাগরের নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত কী?
    উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগরের প্রায় মধ্যাংশে পশ্চিমমুখী উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত দুটির ঠিক মাঝখানে একটি স্রোত বিপরীত মুখে অর্থাৎ পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়। একে বলে আটলান্টিকের নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত।
  147. কুরেশিয়ো স্রোত বা জাপান স্রোত কাকে বলে?
    উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাংশে বিশেষত জাপানের পূর্ব উপকূল বরাবর দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রবাহিত উষ্ণ স্রোতের নাম কুরেশিয়ো স্রোত বা জাপান স্রোত।
  148. জাপান উপকূল কোন স্রোতের প্রভাবে উষ্ণ থাকে?
    উত্তর: কুরেশিয়ো স্রোত বা জাপান স্রোতের প্রভাবে।
  149. মালাগাসি দ্বীপের পূর্ব উপকূল দিয়ে প্রবাহিত স্রোতটির নাম কী?
    উত্তর: মালাগাসি স্রোত।
  150. সমুদ্রতরঙ্গ উপকূল পেরিয়ে সৈকতে আছড়ে পড়লে তাকে কী বলে?
    উত্তর: সম্মুখ তরঙ্গ।
  151. সমুদ্রের ঢেউ যখন উপকূল থেকে সমুদ্রের দিকে যায় তখন তাকে কী বলে?
    উত্তর: পশ্চাৎগামী তরঙ্গ।
  152. পশ্চাৎগামী তরঙ্গকে আর কী নামে ভাবা হয়?
    উত্তর: বিনাশকারী তরঙ্গ।
  153. ছোটো ছোটো যে তরঙ্গগুলি উপকূলভাগ গঠন করে তাকে কী বলে?
    উত্তর: গঠনকারী তরঙ্গ।
  154. আটলান্টিক মহাসাগরের একটি মগ্নচড়ার নাম করো।
    উত্তর: গ্র্যান্ড ব্যাংক।
  155. পৃথিবীর গভীরতম মহাসাগরের নাম কী?
    উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগর।
  156. কোন বায়ুর দ্বারা ভারত মহাসাগরের সমুদ্রস্রোত নিয়ন্ত্রিত হয়?
    উত্তর: মৌসুমি বায়ু।
  157. পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাতের নাম কী?
    উত্তর: মারিয়ানা খাত।
  158. স্রোতহীন ও ভাসমান উদ্ভিদযুক্ত সমুদ্র অঞ্চলকে কী বলে?
    উত্তর: শৈবাল সাগর।
  159. কোন দুটি স্রোতের মিলিত প্রবাহ আগুলহাস স্রোতের সৃষ্টি করে?
    উত্তর: মোজাম্বিক স্রোত ও মাদাগাস্কার স্রোত।
  160. পৃথিবীর কত ভাগ অংশ জলবেষ্টিত?
    উত্তর: ৭১ শতাংশ।
  161. ভূপৃষ্ঠের কতখানি অংশ জলভাগ বেষ্টিত?
    উত্তর: ৩৬ কোটি ১৭ লক্ষ ৪০ হাজার বর্গকিমি।
  162. পৃথিবীতে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পৃথিবীকে কী নামে ভাবা হয়?
    উত্তর: নীলগ্রহ।
  163. জোয়ারভাটার প্রধান কারণ কী?
    উত্তর: চন্দ্র এবং সূর্যের আকর্ষণ।
  164. কোন্ কোন্ সাগরে জোয়ারভাটা হয় না?
    উত্তর: ভূমধ্যসাগর ও বাল্টিক সাগর।
  165. কোন্ শক্তির প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়?
    উত্তর: বিকর্ষণ শক্তি (কেন্দ্রাতিগ বল)।
  166. আপেক্ষিক অবস্থানে চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব কত হয়?
    উত্তর: ৪ লক্ষ ০৭ হাজার কিমি।
  167. কোন্ জোয়ারের সাথে নদীতে বান ডাকে?
    উত্তর: ভরা জোয়ারে।
  168. সাধারণত কোন্ ঋতুতে বান ডাকে?
    উত্তর: বর্ষা ঋতুতে।
  169. পেরিজি অবস্থানে চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব কত হয়?
    উত্তর: ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার কিমি।
  170. চাঁদ এবং সূর্যের জোয়ার উৎপন্ন করার ক্ষমতার প্রকৃত অনুপাত কত?
    উত্তর: ১১:৫ অনুপাত।
  171. চাঁদের কক্ষপথটি কেমন দেখতে?
    উত্তর: উপবৃত্তাকার।
  172. পশ্চিমবঙ্গে বান ডাকে এমন একটি নদীর নাম লেখো।
    উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি নদীতে বান ডাকে।
  173. অন্তঃস্রোত কাকে বলে?
    উত্তর: সমুদ্রের নীচের অংশ দিয়ে প্রবাহিত স্রোতকে বলে অন্তঃস্রোত।
  174. কোন স্রোতের প্রভাবে জাপান উপকূল উষ্ণ থাকে?
    উত্তর: কুরোশিয়ো স্রোতের প্রভাবে জাপান উপকূল উষ্ণ থাকে।
  175. মগ্নচড়া বলতে কী বোঝ?
    উত্তর: উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের মিলনস্থলে যে অগভীর চড়া সৃষ্টি হয় তাকে মগ্নচড়া বলে।
  176. কাকে Thermal Regulatory বলে?
    উত্তর: সমুদ্রস্রোতকে।
  177. জোয়ার ভাটা সৃষ্টির দুটি কারণ লেখো।
    উত্তর: (i) মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে, (ii) কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে।
  178. কোন নদীতে ষাঁড়াষাঁড়ি বান দেখা যায়?
    উত্তর: হুগলি নদীতে বর্ষাকালে।
  179. পৃথিবীর মোট জলরাশির কত ভাগ সমুদ্রজল?
    উত্তর: পৃথিবীর মোট জলরাশির ৯৭ ভাগই সমুদ্রজল।
  180. পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগরের নাম কী?
    উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগর।
  181. পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগরের নাম কী?
    উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগর।
  182. ‘সিজিগি’ কথার অর্থ কি?
    উত্তর: যোগবিন্দু।
  183. ‘বানডাকা’ আমাজন নদীতে কি নামে পরিচিত?
    উত্তর: পোরোরোকাস (প্রবল গর্জন)।
  184. ষাঁড়াষাঁড়ি বান পশ্চিমবঙ্গের কোন নদীতে দেখা যায়?
    উত্তর: হুগলি।
  185. বারিমণ্ডল কাকে বলে?
    উত্তর: পৃথিবীর যে বিশাল অংশে জলের অবস্থান লক্ষ করি তার নাম বারিমণ্ডল।
  186. ভূ-পৃষ্ঠের শতকরা কত ভাগ স্থান জলভাগ অধিকার করে আছে?
    উত্তর: ৭০ ভাগ।
  187. আটলান্টিক মহাসাগরের দুটি উষ্ণ স্রোতের নাম লেখ।
    উত্তর: উপসাগরীয় স্রোত ও ব্রাজিল স্রোত।
  188. আটলান্টিক মহাসাগরের কোন অংশে হিমপ্রাচীর সৃষ্টি হয়?
    উত্তর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাংশে হিমপ্রাচীর সৃষ্টি হয়।
  189. সমুদ্র স্রোত কয় প্রকার ও কী কী?
    উত্তর: দুই প্রকার। যথা—উষ্ণ স্রোত ও শীতল স্রোত।
  190. শীতল স্রোত কাকে বলে?
    উত্তর: মেরু অঞ্চলের সমুদ্র থেকে শীতল জলরাশির যে স্রোত প্রবাহিত হয় তাকে শীতল স্রোত বলে। যেমন—ল্যাব্রাডর।
  191. উষ্ণ স্রোত কাকে বলে?
    উত্তর: উষ্ণ জলের স্রোতকে উষ্ণস্রোত বলে। যেমন—গিনি স্রোত।
  192. ব্রাজিল স্রোত কাকে বলে?
    উত্তর: দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্বাংশে ব্রাজিলের পূর্ব উপকূল বরাবর যে উষ্ণ স্রোতটি উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয় তাকে ব্রাজিল স্রোত বলে।
  193. বেঙ্গুয়েলা স্রোত কাকে বলে?
    উত্তর: এটি আটলান্টিক মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের একটি শীতল স্রোত। দক্ষিণ মহাসাগর থেকে শীতল কুমেরু স্রোতের একটি শাখা আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর উত্তরদিকে প্রবাহিত হয়। এরই নাম বেঙ্গুয়েলা স্রোত।
  194. একটি স্বাদু জলের হ্রদের নাম লেখ।
    উত্তর: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সুপিরিয়র।
  195. ভারতের একটি সুপেয় জলের হ্রদের নাম লেখ।
    উত্তর: ডাল হ্রদ।
  196. একটি লবণাক্ত জলের হ্রদের নাম লেখ।
    উত্তর: জর্ডন-ইস্রায়েল সীমান্তের মরুসাগর।
  197. চিল্কা কী জাতীয় হ্রদ?
    উত্তর: লবণাক্ত জলের হ্রদ।
  198. পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদের নাম কী?
    উত্তর: কাস্পিয়ান।
  199. পৃথিবীর বৃহত্তম সুপেয় জলের হ্রদের নাম কী?
    উত্তর: আমেরিকার সুপিরিয়র।
  200. পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা লবণাক্ত হ্রদ কোনটি?
    উত্তর: জর্ডন-ইস্রায়েল সীমান্তের মরুসাগর।
  201. পৃথিবীর গভীরতম হ্রদের নাম কী?
    উত্তর: রাশিয়ার বৈকাল।
  202. পৃথিবীর সর্বোচ্চ হ্রদের নাম কী?
    উত্তর: দক্ষিণ আমেরিকার টিটিকাকা।
  203. পৃথিবীর নিম্নতম হ্রদ কোনটি?
    উত্তর: জর্ডন-ইস্রায়েল সীমান্তের মরুসাগর।
  204. হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে কোন হ্রদ সৃষ্টি হয়?
    উত্তর: করি হ্রদ।
  205. ভারতের পূর্ব উপকূলের একটি উপহ্রদের নাম করো।
    উত্তর: চিল্কা, পুলিকট।
  206. একটি উপহ্রদের নাম লেখ।
    উত্তর: চিল্কা।
  207. সমুদ্রস্রোত কাকে বলে?
    উত্তর: সমুদ্রের পৃষ্ঠ জলরাশির প্রাকৃতিক কারণে এক স্থান থেকে অন্য এক স্থানের দিকে নির্দিষ্ট পথে সারা বছর ধরে নিয়মিতভাবে ধীরে ধীরে একমুখী প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।
  208. সমুদ্র জলের আয়তনের পরিমাপের একক কী?
    উত্তর: ভাদ্রুপ বা সেডেয়ারড্রপ।
  209. উষ্ণ স্রোত ও শীতল স্রোতের মাঝে যে সীমারেখা তাকে কি বলে?
    উত্তর: হিমপ্রাচীর।
  210. মগ্নচড়াগুলি কি জন্য বিখ্যাত?
    উত্তর: সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র হিসেবে।
  211. মাছেদের প্রিয় খাদ্য কি?
    উত্তর: প্ল্যাংকটন।
  212. কোন স্রোতের প্রভাবে পূর্ব কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের শৈত্য প্রবাহ ঘটে?
    উত্তর: শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে।
  213. কোন স্রোতের প্রভাবে জাপান উপকূলে ঝঞ্ঝাপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি হয়?
    উত্তর: শীতল ওয়াশিয়ো ও উষ্ণ কুরোশিয়ো স্রোতের মিলনে।
  214. কোন স্রোতের প্রভাবে নিউ ফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে ঝঞ্ঝাপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি হয়?
    উত্তর: উষ্ণ উপসাগরীয় ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনে।
  215. পৃথিবীর দীর্ঘতম বা বৃহত্তম স্রোতের নাম কি?
    উত্তর: আন্টার্কটিক উপমেরু স্রোত।
  216. দ্রুততম স্রোতের নাম কি?
    উত্তর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত।
  217. একই স্থানে প্রতিদিন কয়বার জোয়ার ভাটা হয়?
    উত্তর: দুইবার।
  218. চাঁদ অপেক্ষা সূর্যের আয়তন কত গুণ বেশি?
    উত্তর: ২৭.৭ কোটি গুণ।
  219. চাঁদ অপেক্ষা সূর্যের ভর কত গুণ বেশি?
    উত্তর: প্রায় ২৫৫ লক্ষ গুণ।
  220. পৃথিবীর ওপর চাঁদের মহাকর্ষ শক্তি সূর্যের অপেক্ষা কত গুণ বেশি?
    উত্তর: ২.২ গুণ বেশি। আনুপাতিক হিসেবে ১১:৫।
  221. জোয়ার ভাটা সৃষ্টির মূল কারণ কি?
    উত্তর: চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তি।
  222. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কোন জোয়ারের সৃষ্টি হয়?
    উত্তর: গৌণ জোয়ার।
  223. চাঁদের পরিক্রমণের দিন সংখ্যা কত?
    উত্তর: ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা।
  224. দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে পার্থক্য কত?
    উত্তর: ২৪ ঘ. ৪৮ মি. ৪৫ সে. (প্রায় ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট)।
  225. একটি মুখ্য ও গৌণ জোয়ারের মধ্যে পার্থক্য কত?
    উত্তর: ১২ ঘ. ২৪ মি. ২২.৫ সে. (প্রায় ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট)।
  226. জোয়ার ও ভাটার মধ্যে পার্থক্য কত?
    উত্তর: ৬ ঘন্টা ১২ মিনিট ১১.২৫ সে. (প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট)।
  227. সিজিগি কাকে বলে?
    উত্তর: চাঁদের কেন্দ্র, পৃথিবী ও সূর্যের কেন্দ্রের সঙ্গে একই সরলরেখায় অবস্থান করলে এই সরলরৈখিক অবস্থানকে সিজিগি বা যোগবিন্দু বলে।
  228. সংযোগ অবস্থান কি?
    উত্তর: পৃথিবীর একইদিকে একই সরলরেখায় পৃথিবীর পরে চাঁদ ও তারপর সূর্যের অবস্থানকে সংযোগ বলে।
  229. প্রতিযোগ অবস্থান কি?
    উত্তর: পৃথিবীর দুটি বিপরীত দিকে একই সরলরেখায় চাঁদ ও সূর্যের অবস্থানকে প্রতিযোগ বলে।
  230. পৃথিবী থেকে চাঁদের বেশি দূরত্বকে কি বলা হয়?
    উত্তর: অ্যাপোজি।
  231. পৃথিবী থেকে চাঁদের কম দূরত্বকে কি বলা হয়?
    উত্তর: পেরিজি।
  232. একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও: সমুদ্র স্রোতের প্রধান নিয়ন্ত্রক কে?
    উত্তর: নিয়ত বায়ুপ্রবাহ।
  233. আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সমুদ্র স্রোতের নাম লেখ।
    উত্তর: বেঙ্গুয়েলা স্রোত।
  1. সমুদ্রস্রোতের সংজ্ঞা দাও।
    উত্তর: বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন, সমুদ্রজলের উষ্ণতা, ঘনত্ব ও লবণতার পার্থক্যের কারণে সমুদ্রের বিশাল এলাকা জুড়ে নিয়মিত ও নির্দিষ্ট অভিমুখে নির্দিষ্ট পথে সমুদ্রজলের একমুখী ধারাবাহিক প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।
  2. সমুদ্রতরঙ্গ কাকে বলে?
    উত্তর: বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষণ বা পীড়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশি স্থানান্তরিত না হয়ে কেবল একই জায়গায় উল্লম্বভাবে (উপরে ও নিচে) ওঠানামা করার মাধ্যমে যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয় এবং তা তটভূমির দিকে ধাবিত হয়ে আছড়ে পড়ে, তাকে সমুদ্রতরঙ্গ বলে।
  3. সমুদ্রস্রোতের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
    উত্তর: (i) সমুদ্রস্রোত পৃষ্ঠপ্রবাহ ও অন্তঃপ্রবাহ উভয়রূপে বাহিত হয়। (ii) বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের মূল কারণ। বায়ুর গতি ৫০ কিমি/ঘণ্টা হলে সমুদ্রস্রোতের গতি হয় মাত্র ১–২ কিমি/ঘণ্টা। (iii) সমুদ্রের মাঝবরাবর বিভিন্ন স্রোত চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে কুণ্ডলী বা জায়র (Gyre) সৃষ্টি করে।
  4. শৈবাল সাগর কী?
    উত্তর: উত্তর আটলান্টিকের মাঝবরাবর বায়ুপ্রবাহ ও কোরিওলিস বলের প্রভাবে বিভিন্ন স্রোত চক্রাকারে একটি স্রোতরূপে আবর্তিত হয়ে গায়র গঠন করেছে। এই চক্রাকার জলরাশির মাঝখান স্থির ও স্রোতবিহীন বলে শৈবাল জন্মায়। তাই এটি শৈবাল সাগর। এটি কিন্তু নামেই সাগর, এর কোনো উপকূলরেখা নেই।
  5. হিমপ্রাচীরের সংজ্ঞা দাও।
    উত্তর: নিউফাউন্ডল্যান্ড অঞ্চলে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত (জলের রং গাঢ় নীল) এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত (জলের রং গাঢ় সবুজ) পাশাপাশি পরস্পর বিপরীতে বয়ে যায়। এদের স্পষ্ট সীমারেখাকে হিমপ্রাচীর বলে।
  6. প্লাঙ্কটন কী?
    উত্তর: সমুদ্রজলে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম আণুবীক্ষণিক জীবকুলকে বলে প্লাংকটন। শব্দের অর্থ: এটি একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ ‘ঘুরে বেড়ানো’। শ্রেণিবিভাগ: প্লাংকটন দু’প্রকারের— ❶ উদ্ভিদ প্লাংকটন (ডায়াটম) বা ফাইটোপ্লাংকটন ও ❷ প্রাণী প্লাংকটন বা জু-প্লাংকটন (প্রোটোজোয়া)।
  7. মগ্নচড়া কাকে বলে?
    উত্তর: যেখানে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোত একত্রে মিলিত হয়, সেখানে শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈলগুলি উষ্ণ স্রোতের স্পর্শে গলে যায়। এর ফলে হিমশৈলের মধ্যে সঞ্চিত বালি, পলি ও নুড়ি পাথর সমুদ্রের তলদেশে ক্রমাগত অধঃক্ষিপ্ত (জমা) হয়ে সমুদ্রের অগভীর স্থান বা চড়ার সৃষ্টি করে; একে মগ্নচড়া বা ব্যাংক বলে। উদাহরণ: আটলান্টিক মহাসাগরের ‘গ্র্যান্ড ব্যাংক’ হল পৃথিবীর বৃহত্তম মগ্নচড়া।
  8. চন্দ্রজোয়ার কী?
    উত্তর: পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের সামনে থাকে বিপরীত অংশ অপেক্ষা দূরত্ব কম বলে সেখানেই চাঁদের আকর্ষণ বল সবথেকে বেশি এবং সেখানে জল ফুলে উঠে জোয়ারের সৃষ্টি হয়। এটি হল মুখ্য জোয়ার বা চন্দ্র জোয়ার।
  9. সংযোগ ও প্রতিযোগ কী?
    উত্তর:
    সংযোগ: অমাবস্যা তিথিতে যখন চাঁদ একই সরলরেখায় পৃথিবীর ও সূর্যের মাঝখানে থাকে তখন তাকে বলে সংযোগ (Conjunction)।
    প্রতিযোগ: পূর্ণিমা তিথিতে একই সরলরেখায় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে থাকে তখন তাকে বলে প্রতিযোগ (Opposition)।
  10. বানডাকা কী?
    উত্তর: ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল বেগে উলটো খাতে প্রবেশ করে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ঘটায়। একে বান ডাকা বলা হয়। আমাদের রাজ্যের হুগলি ও সুন্দরবনের নদীগুলিতে, ইংল্যান্ডের টেমস্, আর্জেন্টিনার লা-প্লাটা প্রভৃতি নদীতে বান আসে। বর্ষাকালে বান ডাকা মাঝে মাঝে ভয়ংকর হয়।
  11. অ্যাপোজি জোয়ার কাকে বলে?
    উত্তর: পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যখন সর্বাধিক সেই অবস্থা হল অ্যাপোজি অবস্থান এবং এই সময় পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ বল অনেকটাই কম হয়। তাই জোয়ারের প্রাবল্য কম হয়, যাকে অ্যাপোজি জোয়ার বলে।
  12. মগ্নচড়া কীভাবে সৃষ্টি হয়?
    উত্তর: সমুদ্রে উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে শীতল স্রোতের বয়ে আনা হিমশৈলগুলি উষ্ণ জলের স্পর্শে গলে যায়। মহাদেশীয় অংশ থেকে আগত হিমশৈলের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ নুড়ি, কাঁকর, বালি, পাথর, খনিজ দ্রব্য প্রভৃতি উষ্ণ জলের সংস্পর্শে এগুলি গলে গেলে ওইসব পদার্থ সমুদ্রের মহীসোপান অঞ্চলে সঞ্চিত হয়ে মগ্নচড়ার সৃষ্টি করে।
  13. হিমপ্রাচীর কাকে বলে?
    উত্তর: উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে উত্তরমুখী উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের ঘন নীল জল এবং দক্ষিণমুখী শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সবুজ জলের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা দেখা যায়। এই বিভাজন রেখাকে হিমপ্রাচীর বলে।
  14. ষাঁড়াষাঁড়ির বান কাকে বলে?
    উত্তর: ভরা কোটালের দিনে সমুদ্রের জল নদীখাতে যখন প্রবল জলোচ্ছ্বাস ঘটিয়ে ঢুকে পড়ে তখন ভাটার স্রোতের বাধায় জোয়ার আরও বেশি ফুলে ওঠে এবং এই ফুলে ওঠা জল তরঙ্গরূপে যেন এক খাড়া দেওয়াল তৈরি করে। এরকম প্রবল জলস্ফীতিকে তেজি ষাঁড়ের যুদ্ধরত অবস্থার সঙ্গে তুলনা কর ষাঁড়াষাঁড়ির বান বলে।
  15. বারিমণ্ডল (Hydrosphere) কাকে বলে বা বারিমণ্ডল বলতে কী বোঝ?
    উত্তর: ভূপৃষ্ঠ এবং ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি অবস্থিত জলের সমস্ত উৎস ও ভাণ্ডারকে একত্রে বারিমণ্ডল বা Hydrosphere বলে (‘বারি’ শব্দের অর্থ হল ‘জল’)। বারিমণ্ডলের মোট জলের প্রায় ৯৭% রয়েছে সাগর ও মহাসাগরে। অবশিষ্ট ৩ ভাগ জলের প্রায় ৭৫% সজ্জিত রয়েছে বরফ রূপে। বাকি ২৫% নদী, হ্রদ, পুকুর, খাল, বিল ও অন্যান্য জলাভূমিতে অবস্থান করছে।
  16. কোরিওলিস বল কী?
    উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাবে প্রবাহিত বায়ু, সমুদ্রস্রোতের ওপর যে বল কাজ করে তা হল কোরিওলিস বল। কোরিওলিস বল বায়ু ও সমুদ্রস্রোতের দিকের সাথে সমকোণে কাজ করে বলে বায়ু ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডান এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
  17. ফেরেল সূত্র কী?
    উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুর মতো সমুদ্রস্রোতও উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। এটি হল ফেরেল সূত্র।
  18. গায়র বা কুণ্ডলী কাকে বলে?
    উত্তর: সকল মহাসাগরের মাঝবরাবর কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত বেঁকে গিয়ে ও মিলিত হয়ে জলাবর্ত বা চক্র সৃষ্টি করে। একেই গায়র বা কুণ্ডলী বলে।
  19. শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) কাকে বলে?
    উত্তর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উষ্ণ উপসাগরীয়, শীতল ক্যানারি ও উষ্ণ উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের মিলনে যে জলাবর্ত সৃষ্টি হয় তার মধ্যবর্তী স্রোতহীন শৈবাল আগাছাপূর্ণ স্থানকে বলে শৈবাল সাগর।
  20. উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন অঞ্চলে কী কী আবহগত ঘটনা ঘটে?
    উত্তর: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন অঞ্চলে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয় এবং মাঝে মাঝে ঝড়বৃষ্টিসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি করে।
  21. মগ্নচড়া বা ব্যাংক কী?
    উত্তর: জলের সংস্পর্শে গলে যাওয়ায় নুড়ি, বালি, পলি সমুদ্রতলদেশে অধঃক্ষিপ্ত হয়ে যে অগভীর অঞ্চল সৃষ্টি করে তাকে মগ্নচড়া বলে। যেমন—উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিকের গ্র্যান্ড ব্যাংক।
  22. পৃথিবীবিখ্যাত কয়েকটি মগ্নচড়ার গুরুত্ব লেখো।
    উত্তর: পৃথিবীবিখ্যাত কয়েকটি মগ্নচড়া হল গ্র্যান্ড ব্যাংক, ডগার্স ব্যাংক, রকফল ব্যাংক যেগুলি হল পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক মৎস্য আহরণ অঞ্চল।
  23. প্ল্যাংকটন (Plankton) কী?
    উত্তর: সমুদ্রজলে ভাসমান অতিক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীবকে বলে প্ল্যাংকটন। প্ল্যাংকটন ২ প্রকারের হয়— (i) উদ্ভিদ প্ল্যাংকটন বা Phyto-plankton এবং (ii) প্রাণী প্ল্যাংকটন বা Zoo-plankton। সামুদ্রিক মাছেদের প্রধান খাদ্য হল এই প্ল্যাংকটন।
  24. প্রশান্ত মহাসাগরের দুটি উষ্ণ ও দুটি শীতল স্রোতের নাম লেখো।
    উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের দুটি উষ্ণ স্রোত হল— (i) কুরোশিয়ো বা জাপান স্রোত এবং (ii) উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত। প্রশান্ত মহাসাগরের দুটি শীতল স্রোত হল— (i) ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত ও (ii) পেরু স্রোত বা হামবোল্ড স্রোত।
  25. ভারত মহাসাগরের দুটি উষ্ণ ও দুটি শীতল স্রোতের নাম লেখো।
    উত্তর: ভারত মহাসাগরের দুটি উষ্ণ স্রোত হল— (i) মোজাম্বিক স্রোত ও (ii) মাদাগাস্কার স্রোত। ভারত মহাসাগরের দুটি শীতল স্রোত হল— (i) কুমেরু স্রোত ও (ii) পশ্চিম অস্ট্রেলীয় স্রোত।
  26. আটলান্টিক মহাসাগরের দুটি উষ্ণ ও দুটি শীতল স্রোতের নাম লেখো।
    উত্তর: আটলান্টিক মহাসাগরের দুটি উষ্ণ স্রোত হল— (i) ক্যানারি স্রোত ও (ii) ব্রাজিল স্রোত। আটলান্টিক মহাসাগরের দুটি শীতল স্রোত হল— (i) ল্যাব্রাডর স্রোত ও (ii) বেঙ্গুয়েলা স্রোত।
  27. জিওস্ট্রপিক স্রোত (Geostrophic current) কী?
    উত্তর: উষ্ণ শীতল স্রোতের চক্রাকার জলাবর্ত অঞ্চলে জলতলের উচ্চতা পার্শ্ববর্তী অঞ্চল অপেক্ষা বেশি হয়, ফলে জলসমতা ফেরাতে হলে মৃত স্রোত পাশের অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, একেই বলে জিওস্ট্রপিক স্রোত।
  28. উপসাগরীয় স্রোত কাকে বলে?
    উত্তর: পশ্চিমমুখী উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতটি মেক্সিকো উপসাগরের মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের পূর্ব উপকূল দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দিকে প্রবাহিত হয়। এই স্রোতের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশকে উপসাগরীয় স্রোত বলে।
  29. নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত কী?
    উত্তর: উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের মধ্যভাগ দিয়ে একটি ক্ষীণ স্রোত পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয়। এই স্রোতকে নিরক্ষীয় প্রতিস্রোত বলা হয়।
  30. ভারত মহাসাগরে সমুদ্রস্রোত ঋতুপরিবর্তনে বিপরীতমুখী কেন?
    উত্তর: ভারত মহাসাগরের সমুদ্রস্রোতের ওপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব সর্বাধিক। ঋতুপরিবর্তনের সাথে সাথে মৌসুমি বায়ুর দিক ও গতি পরিবর্তন হয় বলে সমুদ্রস্রোতেরও দিক ও গতির পরিবর্তন ঘটে। গ্রীষ্ম ও শীত ঋতুতে এখানে পরস্পর বিপরীতমুখী স্রোত প্রবাহিত হয়।
  31. হিমপ্রাচীর (Cold wall) কাকে বলে?
    উত্তর: দুটি ভিন্ন ঘনত্বের ভিন্ন ভৌতগুণবিশিষ্ট শীতল ও উষ্ণ স্রোত বিপরীত দিক থেকে চালিত হলে তাদের মধ্যবর্তী যে বিভাজনতল সৃষ্টি হয়, তাকে বলে হিমপ্রাচীর।
  32. হিমশৈল (Iceberg) বলতে কী বোঝ?
    উত্তর: বিশালাকৃতি বরফের স্তূপ যখন সমুদ্রের জলে ভাসতে থাকে তখন তাকে হিমশৈল বলে।
  33. হিমশৈলের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব লেখো।
    উত্তর: হিমশৈলের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব হল— (i) মিষ্টি জল দিয়ে তৈরি বিশালাকার বরফ স্তূপ। (ii) মাত্র ১/৯ ভাগ জলের উপরে থাকে। (iii) উচ্চ অক্ষাংশের সমুদ্রে (গ্রিনল্যান্ড, অ্যান্টার্কটিকা) এটিকে দেখা যায়। (iv) জাহাজ চলাচলে ভীষণ বিপদ ঘটায়।
  34. জোয়ার ভাটা কাকে বলে?
    উত্তর: পৃথিবীর ওপর চন্দ্র ও সূর্যের পারস্পরিক আকর্ষণে সমুদ্র ও নদীর জলের সময়ভিত্তিক ওঠানামকেই জোয়ার ভাটা বলে। জলের স্ফীত অংশকে জোয়ার ও অবনত অংশকে ভাটা বলে।
  35. মুখ্য জোয়ার কাকে বলে?
    উত্তর: আবর্তনের সময় পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের নিকটতম সম্মুখে আসে সেখানে চাঁদের আকর্ষণ ক্ষমতা সর্বাধিক হওয়ার ফলে যে জোয়ার সৃষ্টি হয় তাকে মুখ্য জোয়ার বা চন্দ্র জোয়ার বলে।
  36. গৌণ জোয়ার কাকে বলে?
    উত্তর: পৃথিবীর যে অংশে মুখ্য জোয়ার হয় তার বিপরীত অংশে (প্রতিপাদ স্থানে) কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে যে জোয়ার সৃষ্টি হয় তাকে গৌণ জোয়ার বলে।
  37. ভরা কোটাল কাকে বলে? কোন তিথিতে এই জোয়ার হয়?
    উত্তর: পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। চন্দ্র ও সূর্যের মাঝে থাকে পৃথিবী। এরূপ অবস্থায় চন্দ্রের নিকটবর্তী পৃথিবীর অংশে হয় মুখ্য জোয়ার। এই জোয়ারের সময় জল অত্যধিক স্ফীত হয় বলে একে ভরা কোটাল বা তেজ কোটাল বলে। অমাবস্যা তিথিতে পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চন্দ্র একই সরলরেখায় অবস্থান করে এক্ষেত্রে চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে সমুদ্রের জলস্ফীতি অনেক বেশি উঁচু হয় একেও ভরা কোটাল বলে। পূর্ণিমার তুলনায় অমাবস্যা তিথির জোয়ার বেশি তেজী হয়।
  38. মরা কোটাল কাকে বলে? কোন তিথিতে মরা কোটাল হয়?
    উত্তর: শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে অবস্থান করে। ফলে পৃথিবীর উপর চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ তীব্র হয় না। পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের সম্মুখে থাকে সেখানে মুখ্য চন্দ্র জোয়ার ও যে অংশ সূর্যের সম্মুখে থাকে সেখানে সূর্যের আকর্ষণে মুখ্য জোয়ার হয়। উভয় ক্ষেত্রেই জোয়ারের তীব্রতা কম থাকে বলে একে মরা কোটাল বলে।
  39. কী কী কারণে জোয়ার-ভাটা হয়?
    উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতি এবং পৃথিবীর ওপর চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণজনিত বলের কারণে।
  40. চান্দ্র জোয়ার কাকে বলে?
    উত্তর: চন্দ্রের আকর্ষণে পৃথিবীতে যে জোয়ার হয় তাকে চান্দ্র জোয়ার বলে।
  41. সৌর জোয়ার কাকে বলে?
    উত্তর: সূর্যের আকর্ষণে পৃথিবীতে যে জোয়ার হয় তাকে সৌর জোয়ার বলে।
  42. সিজিগি কী? সিজিগি অবস্থান কয় প্রকার ও কী কী?
    উত্তর: বছরের বিশেষ দিনে সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু একই সরলরেখায় অবস্থান করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই সরলরৈখিক অবস্থানকে সিজিগি বলে। এই অবস্থান দুই প্রকার। যথা—সহযোগ ও গতিযোগ।
  43. সহযোগ অবস্থান কাকে বলে?
    উত্তর: অমাবস্যা তিথিতে একই সরলরেখায় সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চন্দ্র অবস্থান করে। এই অবস্থানকে সহযোগ বলে।
  44. অ্যাপোজি কী?
    উত্তর: পৃথিবীর উপগ্রহ চন্দ্র পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে। কক্ষপথের যে অবস্থায় চন্দ্র ও পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি তাকে অ্যাপোজি অবস্থান বলা হয়। এর ফলে যে জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে অ্যাপোজি বা অপসূর জোয়ার বলে।
  45. পেরিজি কী?
    উত্তর: কক্ষপথের যে অবস্থায় চন্দ্র ও পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় তাকে পেরিজি অবস্থান বলা হয়। এর ফলে যে জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে পেরিজি বা অনুসূর জোয়ার বলে।
  46. প্রক্সিজিয়ান কাকে বলে?
    উত্তর: পেরিজি ও সিজিগি অবস্থান মিলে গিয়ে অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথি আসলে ভরা কোটাল প্রবলতম হয় ও জোয়ার সীমা সর্বোচ্চ হয়। এই অবস্থানকে প্রক্সিজিয়ান বলে।

দশম শ্রেণির ভূগোল বিষয়ের বাকি অধ্যায়গুলিও দেখে নিতে পারো।

Chapter 1 বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ

Chapter 2 বায়ুমণ্ডল

Chapter 3 বারিমণ্ডল

Chapter 4 বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

Chapter 5 ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ

Chapter 6 ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ

Chapter 7 উপগ্রহ চিত্র ও ভুবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র

Leave a Reply