দৈহিক ও মোটর বিকাশ (Physical and Motor Development) Notes | WB TET
১. দৈহিক বিকাশ (Physical Development)
উচ্চতা ও ওজন (Height and Weight): ৫ বছর বয়সে শিশুর উচ্চতা জন্মের সময়ের দ্বিগুণ এবং ওজন প্রায় ৫ গুণ হয়। প্রথম ২ বছরে বৃদ্ধি খুব দ্রুত। ২ থেকে ৬ বছরে গতি কিছুটা কমে, ৬ থেকে ১০ বছরে আরও কমে। ১০–১৪ বছর বয়সে মেয়েদের এবং ১২–১৪ বছরে ছেলেদের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধির ঝাঁপ (Growth Spurt) দেখা যায়। ১৮–২০ বছরে পূর্ণ উচ্চতা attained হয়। ১০ বছর পর্যন্ত ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে সামান্য লম্বা ও ভারী। ১১–১২ বছরে মেয়েরা দ্রুত বাড়ে, ১৩ বছরের পর ছেলেরা এগিয়ে যায়।
উচ্চতা বেশি নির্ভর করে বংশগতির (Heredity) উপর, আর ওজন বেশি নির্ভর করে পরিবেশগত উপাদানের (Environment) উপর — পুষ্টি, জীবনযাত্রার মান ইত্যাদি।
শরীরের অনুপাত (Physical Proportions): শিশুর মাথা জন্মের সময় শরীরের ১/৪ অংশ, প্রাপ্তবয়স্কদের ১/৮ অংশ। মাথার প্রস্থ ৩ বছর পর্যন্ত বাড়ে, দৈর্ঘ্য ১৮ বছর পর্যন্ত বাড়ে। ১৬ বছর বয়সে শরীরের বিভিন্ন অংশ পরিপক্ব অনুপাত ধারণ করে।
হাড় (Bones): শিশুর হাড় নরম ও নমনীয়, কারণ এটি প্রধানত তরুণাস্থি (Cartilage) দিয়ে গঠিত। হাড় শক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অস্থিকরণ (Ossification) বলে — এটি প্রথম বছরে শুরু হয় এবং puberty-তে শেষ হয়। জন্মের সময় ২৭০টি হাড় থাকে, puberty-তে ৩৫০টি হয়। মেয়েদের হাড়ের বিকাশ ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে — ৬ বছরে ১ বছর, ৯ বছরে ১.৫ বছর।
পেশি ও স্নেহপদার্থ (Muscles and Fat): প্রথম বছরে স্নেহপদার্থ (Fatty Tissue) দ্রুত বাড়ে, কিশোরকালে পেশি (Muscle) দ্রুত বাড়ে। বড় পেশি আগে বিকশিত হয়, ছোট পেশি পরে। ৫ বছর বয়সে শিশু কাঁচি দিয়ে কাটতে পারে, বল ধরতে পারে। মধ্যম শৈশবে পেশি এখনও বিকশিত হচ্ছে, তাই ঘন ঘন কাজ পরিবর্তন প্রয়োজন।
দাঁত (Teeth): ভ্রূণ ৬ সপ্তাহ বয়স থেকেই দাঁত তৈরি শুরু হয়। প্রথম দাঁত ৪–১২ মাসে ওঠে (গড় ৭ মাস)। আড়াই বছরে ২০টি দুধ দাঁত (Milk Teeth) হয়। ৬ বছর বয়সে দুধ দাঁত পড়তে শুরু করে এবং স্থায়ী দাঁত (Permanent Teeth) ওঠে। ১২ বছরে ২০টি দুধ দাঁত সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপিত হয়। ১৩ বছরে ২৮টি দাঁত হয়। জ্ঞানদাঁত (Wisdom Teeth) ১৭–২৫ বছরে ওঠে।
২. মোটর বিকাশ (Motor Development)
নবজাতকের প্রতিফলন (Reflexes): জন্মের সময় শিশুর বিভিন্ন প্রতিফলন থাকে — পামার/গ্রাস্প (Palmer/Grasp) — হাতে বস্তু রাখলে ধরে; রুটিং (Rooting) — গালে স্পর্শ করলে মাথা ঘুরায়; সাকিং (Sucking) — ঠোঁটে স্পর্শ করলে চোষে; মোরো/স্টার্টল (Moro/Startle) — জোরে শব্দে হাত-পা ছড়ায়; বেবিনস্কি (Babinsky) — পায়ের তলায় স্ট্রোক করলে আঙুল ছড়ায়; ওয়াকিং (Walking) — সোজা ধরে পা মাটিতে ছোঁয়ালে হাঁটার মতো নড়ে।
বড় পেশির কাজ (Large Muscle Activities): হাঁটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সাহায্য ছাড়া হাঁটার গড় বয়স ১৩–১৪ মাস। ২–৫ বছরে শিশুর খেলা প্রধানত বড় পেশির কাজ — দৌড়, লাফ, ওঠা। ৬ বছর বয়সে বেশিরভাগ শিশু মৌলিক মোটর দক্ষতা আয়ত্ত করে।
সূক্ষ্ম পেশির কাজ (Fine Muscle Activities): ৫–৬ বছর বয়সে শিশু আঙুল ও হাত সমন্বয় করতে শুরু করে — লেখা, সেলাই, কারুশিল্প। ৬–১০ বছরে ধীরে ধীরে উন্নতি হয়। সুযোগ, অনুশীলন ও উৎসাহ পেলে যে কেউ এই দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
প্রিহেনশন (Prehension): তর্জনী ও বুড়ো আঙুল বিপরীতে রেখে বস্তু ধরার ক্ষমতা। ৮–৯ মাসে এই ক্ষমতা আসে। এটি ছাড়া লেখা, সেলাই ইত্যাদি দক্ষ কাজ করা যায় না।
হাতের পছন্দ (Handedness): একটি হাত অন্যটির চেয়ে বেশি ব্যবহার করার প্রবণতা। ২ বছর বয়সে শিশু বাম বা ডান হাতের প্রতি পছন্দ দেখায়। উভয়হস্তী (Ambidextrous) হলো দুটি হাত সমানভাবে ব্যবহার। জোর করে হাত পরিবর্তন করালে তোতলামি (Stammering) বা পড়ার সমস্যা হতে পারে।
৩. দৈহিক ও মোটর বিকাশ এবং ব্যক্তিত্ব (Personality)
শারীরিক ও মোটর বিকাশ শিশুর ব্যক্তিত্বকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। যে শিশু অন্যদের চেয়ে খাটো, দুর্বল বা ভিন্ন, সে লজ্জা ও প্রত্যাহৃত (Shy and Withdrawn) হয়ে পড়তে পারে এবং আত্মধারণা (Self-Concept) দুর্বল হয়ে যায়। যে শিশু লম্বা, শক্তিশালী বা দক্ষ, সে নেতা (Leader) হয়ে ওঠে এবং সহপাঠীদের কাছে admired হয়। শিশুর নিজের শরীর সম্পর্কে মনোভাব এবং দক্ষতার সমন্বয়ে ইতিবাচক আত্মবোধ (Positive Sense of Self) গঠিত হয়।
৪. দৈহিক ও মোটর বিকাশকে প্রভাবিত করার উপাদান
জৈবিক উপাদান (Biological): শিশুকে কাজ শেখার আগে পরিপক্বতা (Maturation) বা প্রস্তুতি (Readiness) প্রয়োজন। হাড় ও পেশি পরিপক্ব না হলে প্রশিক্ষণ দিলেও কাজ হবে না।
পরিবেশগত উপাদান (Environmental): সুষম খাদ্য (Balanced Diet), স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিক ব্যায়াম, অনুশীলনের সুযোগ — এসব মিলে শিশু তার পূর্ণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা অর্জন করে।
পরীক্ষার টিপ: উচ্চতা-ওজন, অস্থিকরণ, দাঁত, প্রিহেনশন, হ্যান্ডেডনেস — এই শব্দগুলি সংজ্ঞাসহ মনে রাখো। প্রতিফলনের নাম ও কাজও গুরুত্বপূর্ণ।
Leave a Reply