কম্পিউটারের সফটওয়্যার(Computer Software & Types) কি? কত প্রকার ও কি কি?
তোমরা কি কখনো ভেবেছো, কম্পিউটারের মনিটর, কীবোর্ড আর মাউস তো আমরা দেখি, কিন্তু এই যন্ত্রগুলোকে কে চালায়? হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের শরীর, আর এই শরীরে প্রাণ দিয়ে চালায় এক অদৃশ্য শক্তি। সেই শক্তির নামই সফটওয়্যার।
সফটওয়্যার বলতে কী বোঝায়?
সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের জন্য তৈরি করা নির্দেশাবলী ও প্রোগাম। এটি হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কী করতে হবে।
যেমন আমরা যখন কীবোর্ডে কোনো Key চাপ দি, তখন সফটওয়্যারই নির্দেশ দেয় মনিটরে সেই অক্ষরটি দেখানোর জন্য। আবার আমরা যখন কোনো ছবি প্রিন্ট করতে চাই, তখন সফটওয়্যার প্রিন্টারকে ঠিকভাবে কাজ করানোর পদ্ধতি বলে দেয়।
সফটওয়্যার প্রধানত দুই ধরনের
সফটওয়্যারকে আমরা মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি সিস্টেম সফটওয়্যার, অন্যটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Sofware)
সিস্টেম সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ ম্যানেজার। এটি হার্ডওয়্যারকে পরিচালনা করে এবং অন্য সব সফটওয়্যারের জন্য একটি কাজের পরিবেশ তৈরি করে দেয়। সিস্টেম সফটওয়্যারকে আবার কয়েকটি দলে ভাগ করা যায়।
অপারেটিং সিস্টেম (Operating System)
কম্পিউটার চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই যে সফটওয়্যারটি মেমরিতে লোড হয়, সেটাই হলো অপারেটিং সিস্টেম। এটিই প্রথম স্তরের সফটওয়্যার। এটি ডিস্ক অ্যাক্সেস, মেমরি ব্যবস্থাপনা, কাজের তালিকা তৈরি এবং ইউজারের সঙ্গে কথোপকথনের দায়িত্ব পালন করে। অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া কম্পিউটার চালানো অসম্ভব। উইন্ডোজ এক্সপি, ইউনিক্স এবং লিনাক্স হলো অপারেটিং সিস্টেমের কিছু উদাহরণ।
ডিভাইস ড্রাইভার (Device Drivers)
প্রিন্টার, মাউস, কীবোর্ড বা মনিটর প্রতিটি ডিভাইসের নিজস্ব একটা ড্রাইভার থাকে। এই ড্রাইভারটি ওই ডিভাইসের ভাষা বোঝে এবং অপারেটিং সিস্টেমকে বলে দেয় কীভাবে ওই ডিভাইসটি ব্যবহার করতে হয়। আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমে বেশিরভাগ ড্রাইভার আগে থেকেই দেওয়া থাকে।
ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেটর(Language Translator)
কম্পিউটার শুধু শূন্য আর একের ভাষা বোঝে, যাকে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ বলে। কিন্তু আমরা তো সেটা লিখতে পারি না। তাই আমরা হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজে (যেমন সি বা প্যাসকেল) প্রোগ্রাম লিখি। এই প্রোগ্রামকে মেশিন ভাষায় অনুবাদ করার দরকার হয়। এই অনুবাদক তিন ধরনের।
প্রথমত, কম্পাইলার। এটি পুরো প্রোগ্রামটিকে একসঙ্গে মেশিন ভাষায় অনুবাদ করে ফেলে।
দ্বিতীয়ত, ইন্টারপ্রেটার। এটি প্রোগ্রামের প্রতিটি লাইন আলাদাভাবে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই সেটা এক্সিকিউট করে।
তৃতীয়ত, অ্যাসেম্বলার। অ্যাসেম্বলি ভাষা মেশিন ভাষার খুব কাছাকাছি, অ্যাসেম্বলার সেটিকে সরাসরি মেশিন কোডে রূপান্তরিত করে।
সিস্টেম ইউটিলিটি(System Utility)
এগুলো দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। যেমন হার্ডডিস্ক পরিষ্কার করা, ভাইরাস থেকে রক্ষা করা, ফাইল ব্যাকআপ নেওয়া ইত্যাদি। এরা কম্পিউটারকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে।
২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software)
এই সফটওয়্যারগুলো ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে। আমরা যখন গেম খেলি, ছবি আঁকি, চিঠি লেখি বা অঙ্ক করি, তখন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করি। এটি সিস্টেম সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে চলে। চলো, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ওয়ার্ড প্রসেসর(Word Processor)
এটি দিয়ে তুমি ডকুমেন্ট তৈরি, সম্পাদনা ও প্রিন্ট করতে পারো। শুধু টাইপিং নয়, বানান ও ব্যাকরণ চেক করা, ছবি, গ্রাফ ও রঙিন ফন্ট ব্যবহার করাও সম্ভব। স্কুলের প্রকল্প রিপোর্ট বা চিঠি লেখার জন্য এটি খুব দরকারি। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এবং ওয়ার্ড পারফেক্ট এর উদাহরণ।
স্প্রেডশিট(SpreadSheet)
অফিসের বেতন হিসাব থেকে শুরু করে জটিল আর্থিক তথ্য সংরক্ষণের কাজে স্প্রেডশিট ব্যবহার হয়। এটি অনেকগুলো ঘর বা সেল দিয়ে তৈরি। এই সেলগুলোতে সংখ্যা, টেক্সট বা অঙ্কের সূত্র দেওয়া যায়। একটি সেলের মান বদলালে অন্য সেলের ফলাফল নিজে থেকেই বদলে যায়। মাইক্রোসফট এক্সেল এবং লোটাস ১-২-৩ হলো স্প্রেডশিট সফটওয়্যার।
ইমেজ এডিটর(Image Editor)
ছবি তোলা, তৈরি করা, এডিট করা এবং পরিবর্তন করার জন্য ইমেজ এডিটর ব্যবহার হয়। অ্যাডোব ফটোশপ, অ্যাডোব ইলাস্ট্রেটর এবং কোরেল ড্র হলো এর কিছু নাম।
ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম(Database Management System)
বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর তথ্য, হাসপাতালের রোগীর তালিকা বা দোকানের মালামালের হিসাব সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখার জন্য ডেটাবেস ব্যবহার হয়। এটি তথ্য সংরক্ষণ, পরিবর্তন এবং খুঁজে বের করার জন্য বিশেষ টুলস দেয়। ফক্সপ্রো এবং ওরাকল ডেটাবেস সফটওয়্যারের উদাহরণ।
প্রেজেন্টেশন অ্যাপ্লিকেশন(Presentation Application)
স্কুলে যখন কোনো প্রকল্প উপস্থাপন করতে হয়, তখন স্লাইড তৈরি করে দেখানো খুব সহজ হয়। প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার দিয়ে আমরা ছবি, টেক্সট ও অ্যানিমেশন মিশিয়ে আকর্ষণীয় স্লাইড বানাতে পারি। মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট(MS PowerPoint) হলো এই কাজের সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যার।
ডেস্কটপ পাবলিশিং সফটওয়্যার(Desktop Publishing Software)
ম্যাগাজিন, ব্রোশিওর বা বইয়ের পাতার ডিজাইন করার জন্য ডেস্কটপ পাবলিশিং ব্যবহার হয়। এখানে টেক্সট আর ছবিকে খুব সুন্দরভাবে সাজানো যায়। তারপর সেটা প্রিন্ট করে বের করা যায়। কোয়ার্ক এক্সপ্রেস এবং অ্যাডোব পেজমেকার এর উদাহরণ।